বহুবচনের যথার্থ প্রয়োগ ঘটেনি-

Updated: 7 months ago
  • কুসুমনিচয়
  • পুষ্পদাম
  • কুসুমদাম
  • তারকাবলি
1.5k
ব্যাখ্যাঃ

বাংলা ব্যাকরণে বহুবচনের যথার্থ প্রয়োগ বলতে সাধারণত কোনো একবচনাত্মক বিশেষ্যের সঙ্গে উপযুক্ত বহুবচনাত্মক শব্দাংশ বা পদ যোগ করে তার বহুত্ব বোঝানোকে বোঝায়। এই বহুবচনাত্মক শব্দগুলো বিশেষ্যকে সাধারণভাবে বহুত্বে পরিণত করে।

        
  • কুসুমনিচয়: এখানে 'কুসুম' (ফুল) একবচন। এর সাথে বহুবচনাত্মক শব্দ 'নিচয়' (সমষ্টি বা সমূহ) যোগ করে ফুলের বহুত্ব বোঝানো হয়েছে। এটি বহুবচনের একটি সঠিক প্রয়োগ।
  •     
  • তারকাবলি: এখানে 'তারকা' (তারা) একবচন। এর সাথে বহুবচনাত্মক শব্দ 'আবলি' বা 'বলি' (শ্রেণি বা সমষ্টি) যোগ করে তারার বহুত্ব বোঝানো হয়েছে। এটিও বহুবচনের একটি সঠিক প্রয়োগ।
  •     
  • পুষ্পদাম ও কুসুমদাম: 'পুষ্প' বা 'কুসুম' উভয়ই ফুল অর্থে ব্যবহৃত হয়। 'দাম' শব্দের একাধিক অর্থ রয়েছে, যেমন মূল্য বা মালা/হার। 'পুষ্পদাম' বা 'কুসুমদাম' শব্দবন্ধে 'দাম' অর্থ 'মালা' বা 'হার'। এক্ষেত্রে 'পুষ্পদাম' বা 'কুসুমদাম' বলতে 'ফুলের মালা' বা 'ফুলের হার' বোঝায়। যদিও একটি মালাতে অনেক ফুল থাকে এবং এর দ্বারা ফুলের বহুত্ব বোঝা যায়, তবে এখানে 'দাম' সরাসরি 'পুষ্প' বা 'কুসুম' এর সাধারণ বহুবচনবাচক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি। বরং, 'পুষ্পদাম' একটি নির্দিষ্ট যৌগিক শব্দ যা 'ফুলের মালা' নামক একটি বস্তুকে নির্দেশ করে। এটি 'পুষ্প' বা 'কুসুম'-এর সাধারণ বহুবচন গঠন করে না, যেমনটা 'পুষ্পসমূহ' বা 'কুসুমরাজি' করে। ব্যাকরণগতভাবে, 'দাম' এখানে 'পুষ্প' বা 'কুসুম'-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি নতুন যৌগিক শব্দ তৈরি করেছে, যা নিজের অর্থেই বহুত্ব ধারণ করে, কিন্তু এটি 'পুষ্প' বা 'কুসুম'-কে বহুবচনে পরিণত করার জন্য ব্যবহৃত কোনো সাধারণ বহুবচনাত্মক শব্দ নয়। তাই, বহুবচনের যথার্থ প্রয়োগের ক্ষেত্রে এটি অন্যান্য বিকল্পের মতো সরাসরি বহুবচনবাচক শব্দ দ্বারা গঠিত নয়।

উপরে উল্লিখিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, 'কুসুমনিচয়' এবং 'তারকাবলি' বহুবচনের যথার্থ প্রয়োগের উদাহরণ। কিন্তু 'পুষ্পদাম' এবং 'কুসুমদাম' নির্দিষ্ট যৌগিক শব্দ যা 'ফুলের মালা' অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেখানে 'দাম' সরাসরি বহুবচনবাচক শব্দ হিসেবে কাজ করে না, বরং একটি বস্তুর (মালা) নাম গঠন করে যা নিজের অর্থেই বহুত্ব ধারণ করে। তাই, বহুবচনের সাধারণ ব্যাকরণগত প্রয়োগের ক্ষেত্রে 'পুষ্পদাম' বা 'কুসুমদাম'-কে যথাযথ প্রয়োগ হিসেবে গণ্য করা হয় না।

Satt AI
Satt AI
3 days ago

বহুবচন : যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে। যেমন : তারা গেল। মেয়েরা এখনও আসেনি।

কেবলমাত্র বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়। কোনো কোনো সময় টা, টি, খানা, খানি ইত্যাদি যোগ করে বিশেষ্যের একবচন নির্দেশ করা হয়। যেমন – গরুটা, বাছুরটা, কলমটা, খাতাখানা, বইখানি ইত্যাদি ।

বাংলায় বহুবচন প্রকাশের জন্য রা, এরা, গুলা, গুলি, গুলো, দিগ, দের প্রভৃতি বিভক্তি যুক্ত হয় এবং সব, সকল, সমুদয়, কূল, বৃন্দ, বর্গ, নিচয়, রাজি, রাশি, পাল, দাম, নিকর, মালা, আবলি প্রভৃতি সমষ্টিবোধক শব্দ ব্যবহৃত হয়। সমষ্টিবোধক শব্দগুলোর বেশিরভাগই তৎসম বা সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত ৷

প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক এবং ইতর প্রাণিবাচক ও উন্নত প্রাণিবাচক শব্দভেদে বিভিন্ন ধরনের বহু বচনবোধক

প্রত্যয় ও সমষ্টিবোধক শব্দ যুক্ত হয়। যেমন-

(ক) রা–কেবল উন্নত প্রাণিবাচক শব্দের সঙ্গে ‘রা’ বিভক্তির ব্যবহার পাওয়া যায়। যেমন- ছাত্ররা খেলা দেখতে গেছে। তারা সকলেই লেখাপড়া করে। শিক্ষকেরা জ্ঞান দান করেন।

যে ধরনের শব্দে ‘রা' যুক্ত, সে ধরনের শব্দের শেষে কোনো কোনো সময় ‘এরা' ব্যবহৃত হয়। যেমন মেয়েরা ঝিয়েরা একত্র হয়েছে। সময় সময় কবিতা বা অন্যান্য প্রয়োজনে অপ্রাণী ও ইতর প্রাণিবাচক শব্দেও রা, এরা যুক্ত হয়। যেমন – ‘পাখিরা আকাশে উড়ে দেখিয়া হিংসায় পিপীলিকারা বিধাতার কাছে পাখা চায়।” কাকেরা এক বিরাট সভা করল। -

(খ) গুলা, গুলি, গুলো প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে যুক্ত হয়। যেমন – অতগুলো কুমড়া দিয়ে কী হবে? আমগুলো টক। টাকাগুলো দিয়ে দাও। ময়ূরগুলো পুচ্ছ নাড়িয়ে নাচছে।

(ক) উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ

গণ :দেবগণ, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি ।

বৃন্দ : সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি ৷

মণ্ডলী: শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।

বর্গ: পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রিবর্গ ইত্যাদি।

(খ) প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ

কুল : কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।

সকল: পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।

সব : ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।

সমূহ: বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

(গ) অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ

আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি। যেমন-গ্রন্থাগারে রক্ষিত পুস্তকাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, বালিরাশি, কুসুমনিচয় ইত্যাদি ।

দ্রষ্টব্য : পাল ও যূথ শব্দ দুটি কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়। যেমন - রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে ।

হস্তিযূথ মাঠের ফসল নষ্ট করছে।

Related Question

View All
Updated: 2 months ago
  • পুষ্পগুলি
  • পুষ্পদাম
  • পুষ্পগুচ্ছ
  • পুষ্পকুঞ্জ
105
  • সচিববৃন্দ
  • সচিবগণ
  • সচিবমণ্ডলী
  • সচিববর্গ
89
  • মাল
  • বৃন্দ
  • সব
  • রাজি
69
Updated: 4 months ago
  • নদীগুলি
  • নদীসমূহ
  • নদীরা
  • নদীগণ
1.6k
Updated: 5 months ago
  • মেঘগুলো
  • মেঘসমূহ
  • মেঘমালা
  • মেঘেরা
264
  • একবচন বোঝাতে
  • বহুবচন বোঝাতে
  • একবচন ও বহুবচন উভয়ই বোঝাতে
  • প্রথমটি একবচন, পরেরটি বহুবচন বোঝাতে
1.9k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই